WHAT'S NEW?
Loading...

৩৫ দিনের জীবন

 


মেহেদী হাসান



ফাস্টফুড বিশেষ করে চিকেন ফ্রাই’র জন্য নামকরা যুক্তরাজ্যভিত্তিক চেইন রেস্টুরেন্ট কেএফসি প্রতি মিনিটে সে দেশে ৪০০ পিস মুরগী বিক্রি করে। পুরো যুক্তরাজ্যজুড়ে ১০০০ ফার্ম রয়েছে যেখান থেকে কেএফসি রেস্টুরেন্টকে মুরগী সরবরাহ করা হয়। বছরে এ স

রবরাহ সংখ্যা ২ কোটি ৩০ লাখ।



জানেন কি এসব ফার্মে একটি মুরগীকে কতদিন বাঁচিয়ে রাখা হয়? মাত্র ৩৫ দিন। জন্মের পর থেকে তাকে রেস্টুরেন্টে চালান দেয়ার উপযুক্ত বড় করার জন্য প্রয়োজনীয় খাবার ও পানীয় দেয়া হয় । এররপর ৩৫ দিনের মাথায় গ্যাস প্রয়োগ করে তাদের সবার জীবন সংহার করে চাহিদা মোতাবেক পাঠিয়ে দেয়া হয় কেএফসির বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে।



এটা দেখতে মুরগী, একটি জীবন, একটি প্রাণীও বটে কিন্তু আসলে কি তার জীবন বলতে কিছু আছে? একে কী জীবন বলা যায় না খাচায় বড় করে তোলা একটি মাংসপিন্ড?


পরিবেশ ও প্রাণ বৈচিত্র্য নিয়ে যারা আন্দোলন করেন, প্রাণীর অধিকার নিয়ে যারা কথা বলেন, তাদের কাছে এটা কোন জীবন নয়। জীবন বলতে যা বোঝায় তার অনেক শর্ত থেকেই তারা সত্যিকার অর্থে বঞ্চিত।



যুক্তরাজ্যের বিবিসি ওয়ান টিভিতে কেএফসি রেস্টুরেন্টের এ মুরগীর ফার্ম বিষয়ে সম্প্রতি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে মুরগীর এ ৩৫ দিনের জীবনকে নিবর্তনমূলক আখ্যায়িত করেছে প্রাণীর অধিকারবাদীরা।



একটি শেডের নিচে ৩৪ হাজার মুরগী রয়েছে এরকম একটি ছবিতে দেখা যায় ওই ঘরে মাত্র কয়েকটি জানালা রয়েছে। এরকম একটি ফার্মের মালিক মুরগীর এ জীবন যাপনে খুবই সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেছেন, এটা তাদের গুড লাইফ । এখানে তারা তাদের প্রয়োজনীয় সব খাবার পায় এবং সুন্দর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশে বেড়ে উঠছে। তার মতে মুরগীরা এখানে এতই ভাল জীবন কাটাচ্ছে যে, এখানে এভাবে মুরগী হয়ে জীবন কাটাতে পারলেও সে কিছু মনে করতনা।


 


ছবিতে দেখা যায় একেকটি শেডের নিচে হাজার হাজার মুরগী একসাথে রাখা। এরপর ৩৫ দিন পার হবার পর তাদের গ্যাস প্রয়োগে বধ করা হয়।


মাত্র ৩৫ দিনে মুরগীগুলোর জীবন শেষ করে দেয়া হচ্ছে এতে তিনি কোন লজ্জা অনুভব করেন কি-না এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না না। হতে পারে এটা সংক্ষিপ্ত জীবন কিন্তু এটা খুব ভাল জীবন।



এনিমল এইডের পরিচালক এন্ড্রু টাইলর প্রাণীর অধিকার নিয়ে কথা বলেন। তার মতে এটা সত্যিকার অর্থে কোন জীবন নয়। জানালাবিহীন বিশাল একটি ছাদের নিচে এমোনিয়া গ্যাসের পুতিগন্ধময়তার মধ্যে তাদের হতভাগ্য জীবন শেষ হয়। যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর এভাবে ৯০ কোটি মুরগী উৎপাদন করা হয় যার মধ্যে প্রায় ৩ কোটি ফার্মের মধ্যে মারা যায়।



টাইলরের মতে জীবন বলতে যা বোঝায় তার সবকিছু থেকেই আসলে বঞ্চিত এই পাখিরা। পরের ধাপে তাদের জরাগ্রস্ত পা ধরে বাক্সের মধ্যে ঢোকানো হয় এবং এরপর তাদের বধ করা হয়। এ প্রকৃয়ায় অনেক পাখির হাড়গোড় ভেঙ্গে যায় বধ হবার আগেই।


বিবিসি মুখপাত্র জানিয়েছে কেএফসির প্রতি নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা হয়েছে প্রামান্যচিত্রটি তৈরি করার ক্ষেত্রে। আর কেএফসি এই প্রথম তাদের সম্পর্কে ক্যামেরায় ছবি তোলার অনুমতি দিয়েছে।



কেএফসি মুখপাত্র জানান, উন্নতমানের খাদ্য তৈরিতে এবং কাস্টমারদের মন রক্ষায় এনিমল ওয়েলফেয়ার অবশ্যই প্রয়োজনীয়। যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের শর্ত বজায় রেখেই কেএফসি এনিমল ওয়েলফেয়ারের দায়িত্ব পালন করে থাকে।


 


 

0 comments:

Post a Comment