WHAT'S NEW?
Loading...

মরুর বুকে ৮ লাখ কোটি টাকার শহর

 


মেহেদী হাসান



লোহিত সাগরের তীর ঘেষে মরুভূমিতে সৌদি আরব বিশাল এক শহর গড়ে তুলছে। ১০০ বিলিয়ন ডলার বা সাত লাখ ৭৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হতে যাওয়া এ শহর হবে পৃথিবীর অন্যতম বড় একটি শহর। এর আয়তন নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ বর্গমাইল

যা ওয়াশিংটন ডিসির চেয়েও বড়।
ইতোমধ্যে শহরটির ১৫ শতাংশ নির্মান কাজ শুরু হয়েছে।


শহরটিতে থাকবে পৃথিবীর অন্যতম বড় একটি সমুদ্র বন্দর, অত্যাধুনিক রেলস্টেশন, বিশাল শিল্প এলাকা, সুসজ্জিত আবাসিক এলাকা, সৈকত। এছাড়া স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, বিশালাকায় শপিং কমপ্লেক্স, সুরম্য মসজিদ, বিনোদন কেন্দ্র, খেলার মাঠ, পার্কসহ ধনিক শ্রেণির আধুনিক বিলাসী জীবন যাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুর সমাহার।


বিশালাকায় রেলস্টেশনের সাথে সরাসরি যোগাযোগ থাকবে মক্কা এবং মদিনার। হাজীসহ ভ্রমনপিপাসুদের জন্য এটা হবে অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র। ২০ লক্ষ মানুষ বাস করতে পারবে এ শহরে। প্রকেল্পর যে ভিডিও ওয়েবসাইটে দেয়া হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে আবাসিক এলাকায় বসবাসের জন্য থাকবে অসংখ্য সুরুম্য ডুপ্লেক্স বাড়ি।



লোহিত সাগরের তীর ঘেষে যে স্থানে শহরটি নির্মিত হচ্ছে সেটা দেখার মত একটি এলাকা বটে। সাগর তীর ঘেষে বিশালাকায় আকাবাকা একটি লেক রয়েছে এখানে । লেকের তিন দিক ভূমিবেষ্টিত আর একদিকে সাগরের সাথে সংযোগ। বিশাল এ লেকের মধ্যে থাকবে আবার ছোট ছোট কয়েকটি দ্বীপ।

সবচেয়ে বড় দ্বীপটিতে রূপান্তর করা হবে অর্থনৈতিক দ্বীপে।


এ বছরের শেষ নাগাদ শেষ হবে হারামাইন রেলস্টেশন নির্মানের কাজ। খ্যাতিমান ব্রিটিশ স্থপতি নরম্যান ফস্টার এর নকশা প্রণয়ন করেছেন। প্রকল্পের তরুন ম্যানেজার রায়ান বুখারী বলেন, রেললাইন নির্মিত হলে এক ঘন্টা ২০ মিনিটে মক্কা এবং তিন ঘন্টায় মদীয়নায় যাওয়া যাবে এখান থেকে। এছাড়া সারা দেশসহ আন্তর্জাতিকভাবে যোগাযোগ নেটওয়ার্ক থাকবে এ শহরের সাথে।


 


রায়ান জানান, বর্তমানে রিয়াদে যেসব বানিজ্যিক পন্য বিদেশ থেকে আসে তার অনেক কিছু দুবাই জেবেল আলী বন্দরে খালাস করা হয়। পরে সেখান থেকে রিয়াদে আনা হয়। নতুন এ মেগাসিটি নির্মিত হলে রিয়াদগামী অনেক পন্য এখানে খালাস হবে এবং তা অতি অল্প সময়ে রিয়াদ পৌছে যাবে।


সৌদি আরবে বর্তমানে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা বেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েট ডিগ্রি অর্জন করছে। তাছাড়া বর্তমানে সৌদিআরবের ২ লাখ ছাত্রছাত্রী বিদেশে পড়াশুনা করছে।


নির্মিতব্য মহানগর প্রকল্পের দায়িত্বে নিয়োজিত এমার ইকনোমি সিটির ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ফাদি আল রশিদ বলেন, এরা যখন দেশে আসবে তখন পরিস্থিতির অনেক পরিবর্তন হবে। সবকিছু বিবেচনায় রেখে এ মহানগর নির্মান করা হচ্ছে।


সম্প্রতি মারা যাওয়া কিং আব্দুল্লাহ এ নগরের পত্তন করেন। ২০০৫ সালে এ নগর পরিকল্পনার কথা ঘোষনা করে সৌদি সরকার। তাই তার নামানুসারে শহরটির নাম রাখা হয়েছে কিং আব্দুল্লাহ ইকোনমি সিটি। রিয়াদ থেকে এর দূরত্ব ৬০ মাইল।


শহর নির্মানের কাজ শেষ হতে আরো বেশ কয়েক বছর লেগে যাবে। এ শহর নির্মিত হলে পুরো সৌদিআরব নববৈচিত্র পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।


 


 


 


 


 


 

0 comments:

Post a Comment